RMSTU Notice Board LogoRMSTU Notice Hub
NewsEventsGeneral NoticesAcademic Notices

রাবিপ্রবি’তে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপিত

Published on: 31 Mar 2026 03:38:53 AM

রাবিপ্রবি’তে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপিত

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ২৬ মার্চ ২০২৬ খ্রি. যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সাথে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের ধারায় বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এদিনটি জাতির আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও সাহসের প্রতীক। দেশের ছাত্রজনতা-কৃষক-শ্রমিক-বুদ্ধিজীবী সকল স্তরের মানুষের আত্মত্যাগের এবং সকল নিপীড়ন-নির্যাতন ও শোষণ এর বিরুদ্ধে এক গৌরব গাঁথা ইতিহাস নিহিত আছে দিনটিতে। দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সকল শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে ক্যাম্পাসের বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অতঃপর মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদ ও দেশের অগ্রযাত্রার পথে সকল আন্দোলনের শহিদদের রুহের মাগফেরাত এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ও গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের সুস্থতাসহ অত্রাঞ্চলের শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা হয়।

আলোচনায় মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয় স্বাধীনতার মহান আদর্শ, দেশের উন্নয়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের দর্শন বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশের অগ্রগতির জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান। টেকনোলজি বেইজড এ বিশ্বে টেকনোলজির জ্ঞান অর্জন ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয়; তিনি সকলকে যুগোপযোগী টেকনোলজির জ্ঞান অর্জনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। স্বাধীনতার এ দীর্ঘ সময় পরেও দেশের নগর-পল্লীতে বৈষম্য রয়েছে যা প্রত্যাশিত ছিল না; গণআন্দোলনের বৈষম্যবিরোধী চেতনাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এ প্রত্যাশা করেন।

মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আরো বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের যে স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল, সেই সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, আত্মাহুতি দিয়েছেন, যাদের কারণে মানচিত্র পেয়েছি, নতুন নাম পেয়েছি, বাংলাদেশ বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি সেইসকল শহিদ ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরকে শ্রদ্ধা জানাই। বাংলাদেশের প্রতিটি মুক্তি আন্দোলনে শহিদ ও আহতজনদের আমরা স্মরণ রাখতে চাই এবং তাঁদের চাওয়াটাকে পূরণ করবার জন্যে আমরাও নিজেদেরকে যেনো দেশের উন্নয়নে উৎসর্গ করতে পারি, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি আরো বলেন, বৈষম্যমুক্ত একটা বাংলাদেশ চাই আমরা। যাতে করে কোনো মানুষের কাছে আরেকজন মানুষ তার ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জাতিসত্তা, দর্শনের কারণে যেনো বঞ্চিত না হয়। মানুষকে পরিমাপের মাপকাঠি হবে তার মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতা। আমাদেরকে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন করে নির্মাণ এবং বিকশিত করবার জন্য প্রত্যেকেরই নিজ অবস্থান থেকে সততা ও দক্ষতার সাথে নিজেদেরকে নিবেদন করার আহবান জানান। আমাদের প্রতিটা মুহূর্ত, প্রতিটা দিন যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের দায়িত্বে আছি, ততক্ষণ পর্যন্ত কাজটাই হচ্ছে প্রধান ও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশের প্রক্রিয়াটাকে এগিয়ে নেয়া। তিনি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়, পুনর্গঠিত মূল্যবোধে এবং চাহিদার সমন্বয় করে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করার আহবান জানান।

উল্লেখ্য যে, গতকাল ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকল শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন স্বরুপ ক্যাম্পাসের বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়; অতঃপর এক মিনিট নীরবতা পালনসহ শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।